সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব উদযাপন করেছেন।
দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর। উৎসবের অংশ হিসেবে একে অপরকে রঙিন আবির মেখে শুভেচ্ছা জানান ভক্তরা। রঙের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ। ঢোল-করতালের তালে তালে গান-বাজনায় যোগ দেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।বাংলাদেশে এই উৎসবটি ‘দোলযাত্রা’, ‘দোল পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত। দোলযাত্রা উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, হোম যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দোল উৎসব ও কীর্তনের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮ টায় পূজা ও কীর্তন শুরু হয়। পূজা ও কীর্তন শেষে সকাল ১০ টায় প্রসাদ বিতরণ করা হয়। বসন্তের আবহে রঙের এই উৎসব ঘিরে মন্দির এলাকায় ছিল বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। অনেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অংশ নেন আয়োজনে। সকালে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় সার্বজনীন আনন্দোৎসবে।
হোলি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে প্রতিবছরই এই উৎসব উদ্যাপিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।ভক্তদের প্রত্যাশা, রঙের আবিরে কেটে যাবে বিদ্বেষ, সবাই মিলে গড়বেন দেশ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। এদিন দোল উৎসবের মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার কথা জানান অনুরাগীরা। জীবনের সব কালিমা মুছে গিয়ে মানবিকতার বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, এই প্রার্থনাই ছিলো সবার কণ্ঠে।দোলযাত্রা হিন্দু বৈষ্ণবদের উৎসব। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা এবং তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি। বিশ্বের অনেক স্থানে উৎসবটি শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা নামে অধিক পরিচিত হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মাদ্রাজ, উড়িষ্যা প্রভৃতি স্থানে দোল উৎসব এবং উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারত ও নেপালে ‘হোলি’ নামে পরিচিত। কোন কোন স্থানে এ উৎসবকে বসন্ত উৎসবও বলা হয়। পুষ্পরেণু ছিটিয়ে রাধা-কৃষ্ণ দোল উৎসব করতেন। সময়ের বিবর্তনে পুষ্পরেণুর জায়গায় এসেছে ‘আবির’।






0 মন্তব্যসমূহ
dnabdlive@gmail.com