যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বসবাস ও কর্মসংস্থানের আইনি অনুমতিপত্র ‘গ্রিন কার্ড’ বা ‘পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড’ অর্জনের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে দেশটির সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসআইএস)।

নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, অস্থায়ী ভিসাধারীরা আর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না; বরং তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন জমা দিতে হবে। একটি বিবৃতিতে ইউএসআইএস জানিয়েছে, যারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। শুধুমাত্র মার্কিন অর্থনৈতিক বা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম হবে না। এই পদক্ষেপকে অবৈধ অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন বিভিন্ন ভিসাধারী ও দর্শনার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারতেন, সেই সুযোগের দুর্বলতা দূর করার কথা বলা হচ্ছে। তবে এই নীতির সমালোচকেরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই পদ্ধতি পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ আবেদন প্রক্রিয়ার সময় একসঙ্গে থাকতে সাহায্য করত। নতুন পদ্ধতি এমনও পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে গ্রিন কার্ড পাওয়ার আশায় দেশ ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের—যা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়—কারও কারও পক্ষে ফিরে আসা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। ইউএসআইএস-এর নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী বা পর্যটক ভিসাধারীদের মতো ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে আসতে হবে। যখন বিদেশিরা তাদের নিজ দেশে থেকে আবেদন করেন, তখন তাদের খুঁজে বের করা এবং বহিষ্কার করার প্রয়োজন কমে যায়। এমন অনেকেই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ইউএসআইএস-এর মুখপাত্র জ্যাক কালার বলেন, ‘আমরা আইনের মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাচ্ছি, যাতে বিদেশিরা আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থা সঠিকভাবে অনুসরণ করে। এখন থেকে, যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকা কোনো বিদেশি যদি গ্রিন কার্ড চান, তবে তাকে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে’। কালার আরও বলেন, এই নীতির ফলে অভিবাসন ব্যবস্থা ‘আইনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী’ কাজ করবে, এবং ফাঁকফোকর ব্যবহারে উৎসাহিত করার পরিবর্তে তা বন্ধ করবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ‘গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করা উচিত নয়’। তিনি যুক্তি দেন, আইন অনুসরণ করলে অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি বিদেশে অবস্থিত কনস্যুলার অফিসগুলোর মাধ্যমে করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে ইউএসআইএস তাদের সম্পদের ব্যবহার অন্য মামলায়, যেমন সহিংস অপরাধ ও মানবপাচারের শিকারদের ভিসা এবং নাগরিকত্ব আবেদন পর্যালোচনায় ব্যবহার করতে পারবে। এদিকে নতুন এই কড়াকড়ির ফলে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি প্রক্রিয়াধীন আবেদন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক পরিবারকে সাময়িকভাবে আলাদা থাকতে হতে পারে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা বিভাগের পরিচালক জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের অভিবাসন আইন এবং আদালতের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনো বিদেশি এই বিশেষ ধরনের সহায়তা পাওয়ার যোগ্য কি না তা নির্ধারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সব তথ্য ও উপাদান বিবেচনা করতে। ইউএসআইএস-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাইকেল ভালভার্দে বলেছেন, ‘এটি একটি প্রায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ, যা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করবে। যারা নিয়ম মেনে চলেছেন, তারা এখন ব্যাপক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে’। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসন এরইমধ্যে প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এ বছর প্রশাসনের আরেকটি নীতিতে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছে।#ViralNews #TrendingNow #BangladeshToUSA #ImmigrationLaw#USNews #ImmigrationUpdate #BreakingNews #গ্রিনকার্ড #যুক্তরাষ্ট্র#GreenCard #USCIS #USImmigration #PermanentResident #USA
0 মন্তব্যসমূহ
dnabdlive@gmail.com