ডিসি অফিসের দালাল’ হিসেবে পরিচিত রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়! বিচ বাইকের চার কার্ডে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় মোঃ রাসেলকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়ভাবে ‘ডিসি অফিসের দালাল রাসেল’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ বাইকের কার্ড, সৈকতের বিভিন্ন ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র, অর্থ লেনদেন এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।চারটি বিচ বাইকের কার্ড নিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, বিচ বাইকের চারটি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাসেল তাঁদের কাছে চারটি কার্ড হস্তান্তর করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আগস্ট মাসের পর কার্ড নবায়নসংক্রান্ত নোটিশ জারি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন, ৭, ৪, ১৯ ও ৪২ নম্বর কার্ডের কোনো তথ্য সরকারি রেজিস্টার বা বরাদ্দের তালিকায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় চার ব্যবসায়ী চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি নথিতে অস্তিত্ব না থাকা কার্ড কীভাবে তাঁদের হাতে পৌঁছাল? কারা এসব কার্ড তৈরি বা সরবরাহ করেছে? তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ কোথায় গেল? 

সুগন্ধা থেকে লাবণী—বিভিন্ন ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, সুগন্ধা বিচের লকার, লাবণী বিচের লকার, ডাবের কার্ড, চশমার কার্ড, চটপটির কার্ডসহ সৈকতের বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে রাসেলের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম, ব্যানার এবং পরিচয় ব্যবহার করে এসব ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকতে পারে। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা এবং ব্যবসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, একসময় সাধারণ অবস্থা থেকে শুরু করে বর্তমানে রাসেলের বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার পেছনে কী ধরনের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে, তা অনুসন্ধান করা জরুরি।তাঁর বিরুদ্ধে সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন অনুমতিপত্র ও প্রশাসনিক কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি নিজের ভাইয়ের সঙ্গেও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।এ ছাড়া নারীসংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, রাসেল ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদের ছোট ভাই। তিনি বিচ বাইকসংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সহ-সভাপতি হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কার্যালয়ের নাম ও পরিচিতি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।তবে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সম্পর্ক অপরাধের প্রমাণ নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ অনুসন্ধান।

প্রশাসনের কাছে সচেতন মহলের প্রশ্ন

অতীতেও রাসেলকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপরও কেন অভিযোগগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই ?জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি:

১. বিচ বাইকের ৭, ৪, ১৯ ও ৪২ নম্বর কার্ডের বৈধতা যাচাই করতে হবে।

২. চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করতে হবে।

৩. সুগন্ধা ও লাবণী বিচের লকারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক অনুমতিপত্রের প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করতে হবে।

৪. বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যবসার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা যাচাই করতে হবে।

৫. রাসেলের সম্পদের বৈধ উৎস ও কথিত আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান করতে হবে।

৬. প্রতারণা, জালিয়াতি কিংবা অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসনের নীরবতা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় কক্সবাজার

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনসম্পদ। এই সম্পদকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন অনিয়ম, প্রতারণা কিংবা অবৈধ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

প্রশ্ন হচ্ছে, চারজন ব্যবসায়ীর কার্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগসহ এতগুলো বিষয় সামনে আসার পরও কেন পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান হচ্ছে না?


কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় মোঃ রাসেলকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়ভাবে ‘ডিসি অফিসের দালাল রাসেল’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ বাইকের কার্ড জালিয়াতি, সৈকতের বিভিন্ন ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা [i]।

অভিযোগের মূল বিষয়গুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
  • কার্ড জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ: বিচ বাইকের ৪টি কার্ড (৭, ৪, ১৯ ও ৪২ নম্বর) করে দেওয়ার কথা বলে ৪ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে [i]। পরবর্তীতে সরকারি রেজিস্টারে এই কার্ডগুলোর কোনো অস্তিত্ব বা তথ্য পাওয়া যায়নি [i]।
  • সৈকতের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ: সুগন্ধা ও লাবণী বিচের লকার, ডাব, চশমা ও চটপটির কার্ডসহ সৈকতের বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে রাসেলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে [i]।
  • প্রশাসনিক প্রভাব: ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদের ছোট ভাই এবং বিচ বাইকসংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সহ-সভাপতি পরিচয় ব্যবহার করে তিনি জেলা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে জানা গেছে [i]।
বিচ বাইকের ভুয়া কার্ড সরবরাহ এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের অর্থ আত্মসাতের এই গুরুতর ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন