সময় লোড হচ্ছে... তারিখ লোড হচ্ছে...
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ আপডেট হচ্ছে...
নোটিশ বোর্ড
লোডিং নিউজ...

বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা চালু নিয়ে আলোচনা, কী কী সুবিধা আর কী কী ঝুঁকি রয়েছে।

 ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম পেপ্যাল বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে—এমন আলোচনা নতুন করে সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। 





বিশ্বের অনেক দেশেই অনলাইন পেমেন্ট, ফ্রিল্যান্স আয়ের অর্থ গ্রহণ কিংবা আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় এই সেবাটি ব্যবহৃত হয়। তবে বাংলাদেশে এটি এখনও চালু হয়নি। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই পেপ্যাল চালুর দাবি ছিল। বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার খবরও শোনা গিয়েছিল। এমনকি বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন শোনা গেছে, পেপ্যাল বাংলাদেশে আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। সর্বশেষ ২২শে এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে 'পেপ্যাল' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু পেপ্যাল আসলে কী? কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, আর এই সেবা চালু হলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কোন কোন কাজে আসবে—এমন নানা প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। পেপ্যাল কী, কীভাবে কাজ করে? পেপ্যাল মূলত মার্কিন মালিকানাধীন বহুজাতিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এটি একটি অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবহারকারীদের অনলাইনে নিরাপদে অর্থ আদান-প্রদান ও কেনাকাটার জন্য জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে পরিচিত। সহজ করে বললে, এটি একটি ই-পেমেন্ট সিস্টেম বা অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা। এটি এক ধরনের ভার্চুয়াল ওয়ালেট হিসেবে কাজ করে, যেখানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড যুক্ত করে টাকা পাঠানো, গ্রহণ ও কোনো কিছু কিনলে তা মূল্য পরিশোধ করা যায়।বিশ্বজুড়ে পেপ্যালের মতো আরও কিছু প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেমন—স্ট্রাইপ, পেওনিআর ইত্যাদি। বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ এবং পেপ্যাল একই ধরনের আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, তবে তাদের ব্যবহার ও পরিধি ভিন্ন। বিকাশের সেবা শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, পেপ্যাল ক্রস-বর্ডার বা সীমানা পেরিয়ে কাজ করে, অর্থাৎ এক দেশে বসে পণ্য কিনে অন্য দেশ থেকে তার মূল্য পরিশোধ করা যায় পেপ্যালের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, বিকাশের সাথে পেপ্যালের মিল থাকলেও পার্থক্যও রয়েছে। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, "বিকাশ দিয়েও পে (মূল্য পরিশোধ) করা যায়। তবে পার্থক্য হচ্ছে, এটা দিয়ে বিশ্বব্যাপী আপনি পে করতে পারছেন না। আর ডিজিটাল সিস্টেম আস্থার ওপর চলে। পেপ্যাল যেহেতু দু'শোর বেশি দেশে আছে এবং অনেক মুদ্রায় লেনদেন হয়, তাই সবাই একে চিনে। সেজন্য আন্তর্জাতিক ট্রানজেকশনগুলো মানুষ পেপ্যাল দিয়ে করে।" পেপ্যালের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা তাদের ইমেইল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারেন, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পণ্য বা সেবা কেনাকাটাও করতে পারেন এবং এক্ষেত্রে তাকে তৃতীয় কোনো প্ল্যাটফর্মে তার ব্যাংক বা কার্ডের বিস্তারিত তথ্য সরাসরি শেয়ার করতে হয় না। শুধুমাত্র একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহজে অর্থ আদান-প্রদান করা যায় বলে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পেপ্যাল বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত জনপ্রিয়। **পেপ্যাল কাদের বেশি কাজে আসবে?** বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা আন্তর্জাতিক লেনদেন বেশি করেন, তাদের জন্য এটি বেশি কাজে আসবে। তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন ফ্রিল্যান্সার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বিডি জবসের প্রধান নির্বাহী এবং দেশের সফটওয়্যার ও তথ্য প্রযুক্তি খাতের সংগঠন বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, "বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের অনেকে টাকা রিসিভ করতে পারেন না। কারণ অনেক বিদেশি ক্লায়েন্ট পেপ্যালের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে চায়, যেহেতু পেপ্যালের মাধ্যমে করলে তার কিছু সিকিউরিটি আছে। পেপ্যালে ইন্স্যুরেন্স আছে। কোনো কারণে যদি সমস্যা হয়, পেপ্যাল তাকে টাকা ফেরত দেয়। এখন পেপ্যাল এলে ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধা হবে," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি। অধ্যাপক মইনুল হোসেনও মনে করেন, ফ্রিল্যান্সারদের মতো যারা আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ লেনদেন করে, তাদের জন্য এটি বেশি কাজে লাগবে। "কারণ তারা দেশের বাইরে কাজ করে। তাদের অর্থ লেনদেন করতে হয়। এখন তারা পে ইউনিয়ন ও ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, যাতে খরচ বেশি পড়ে এবং সময়ও বেশি লাগে। আর পেপ্যাল হলো ইন্সট্যান্ট (তাৎক্ষণিক লেনদেন হয়), অ্যাকাউন্টে সাথে সাথে টাকা জমা হয়ে যাবে।" এতে একদিকে ফ্রিল্যান্সাররা কম খরচে সরাসরি পারিশ্রমিক পাবেন, অপরদিকে ক্লায়েন্টদের সাথে তাদের কাজ করাটাও অনেক সহজ হয়ে উঠবে। এছাড়া, বিদেশিরা বাংলাদেশে বেড়াতে বা কাজে এলে, বা অনলাইনে বাংলাদেশের পণ্য কিনতে গেলে অনেকসময় তারা ক্রেডিট কার্ডের পরিবর্তে পেপ্যালে পেমেন্ট করতে চান। কিংবা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ব্যক্তি পর্যায়ে যারা বিদেশ থেকে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে চান, তাদের জন্যও পেপ্যালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের সুবিধা হবে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সেইসাথে তারা আরও বলছেন, পেপ্যাল চালু হলে প্রবাসীরাও বাংলাদেশে সহজে ও দ্রুত টাকা পাঠাতে পারবেন। পেপ্যালের মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি দেওয়াটাও সহজ, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দিতে গেলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা যায়। পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে ছিলেন, এমন একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সোনিয়া আলম। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে এবং সম্প্রতি তিনি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে একটি অনলাইন কোর্স কিনেছেন। সেই কোর্সের ফি তিনি পেপ্যালের মাধ্যমেই পরিশোধ করেছেন। বাংলাদেশে এখনো পেপ্যাল চালু হয়নি, তাহলে তিনি দেশে বসে পেপ্যাল ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ কীভাবে করলেন? মিজ আলম জানিয়েছেন, এর কারণ তার পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করা। কিন্তু তিনি তার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার না করে পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট কেন ব্যবহার করলেন, জানতে চাইলে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সিকিউরিটির কারণে। আর এটা খুব ইজি।" তিনি জানান, পেপ্যাল দিয়ে কেনাকাটা করতে গেলে বা কাউকে টাকা পাঠাতে গেলে ব্যবহারকারীকে নতুন করে তার অ্যাকাউন্টের নাম, নম্বর, রাউটিং নম্বর বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, মেয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ডেটা দিতে হয় না। তিনি তার ফোন নম্বর বা ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করেই সব লেনদেন করতে পারবেন। কারণ পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময়ই তাকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ডের সঙ্গে পেপ্যালকে সংযুক্ত করে নিতে হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ